ঘণ্টায় ৩৫০ কিমি গতির বুলেট ট্রেন তৈরি করছে ভারত

নিজস্ব প্রযুক্তিতে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৫০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম বুলেট ট্রেন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। বিদেশি প্রযুক্তিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দেশীয় উচ্চগতির রেলব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘বি৩৫’ নামের এই ট্রেন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারতের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে দেশীয় প্রযুক্তিতে এসব বুলেট ট্রেন তৈরি এবং সেগুলো পরিচালনার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুম্বাই-আহমেদাবাদ হাইস্পিড রেল (এমএএইচএসআর) প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে দুই লাখ কোটি রুপির বেশি করার অনুমোদন দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। ২০১৫ সালের প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় এ ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ। প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বাজেট থেকে প্রায় এক লাখ কোটি রুপি দেওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জাপান জানিয়েছিল, তারা ধীরে ধীরে ই৫ সিরিজের বুলেট ট্রেনের উৎপাদন বন্ধ করবে। ২০৩০ সাল থেকে নতুন ই১০ সিরিজের ট্রেন উৎপাদন এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে সেগুলো যাত্রীসেবায় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে জাপানের ই১০ সিরিজের ট্রেন ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে ভারত। একই সঙ্গে ‘বি২৮’ নামের আরেকটি উচ্চগতির ট্রেনও তৈরি করছে দেশটি।
পাশাপাশি দেশীয় ট্রেন নিয়ন্ত্রণ ও সিগন্যালিং ব্যবস্থা ‘ভারত ট্রেন কন্ট্রোল সিস্টেম’ (বিটিসিএস) তৈরির কাজ চলছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ট্রেনগুলোর মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং রেল চলাচলের নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে মুম্বাই-আহমেদাবাদ রেলপথ
ভারতের রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মুম্বাই-আহমেদাবাদ হাইস্পিড রেল প্রকল্পের দৈর্ঘ্য ৫০৮ কিলোমিটার। গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং দাদরা ও নগর হাভেলির মধ্য দিয়ে যাবে এই রেলপথ।
প্রকল্পটিতে মুম্বাই, থানে, ভিরার, বোইসার, ভাপি, বিলিমোরা, সুরাট, ভারুচ, ভাদোদরা, আনন্দ, আহমেদাবাদ ও সাবরমতী—মোট ১২টি স্টেশন থাকবে।
এদিকে ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি (আইসিএফ) ও ভারত আর্থ মুভার্স লিমিটেড (বিইএমএল) যৌথভাবে নতুন ট্রেন সেটের নকশা ও নির্মাণ করছে। এসব ট্রেন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৮০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম হবে।
বিশ্ববাংলা ফলো করুন
আপডেট, ভিডিও ও ব্রেকিং নিউজ পেতে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকুন।
