ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে: ওবামা

ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়ে অনেক বেশি ‘অসুরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ’ অবস্থায় পড়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাতের ফলে জ্বালানি পরিবহনের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ এখন কার্যত বন্ধ এবং এর ওপর একক নিয়ন্ত্রণ (ভিটো পাওয়ার) বজায় রেখেছে ইরান।
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন উপলক্ষে জর্জিয়ার আটলান্টার শহরতলিতে আয়োজিত এক নির্বাচনী প্রচারসভায় বক্তব্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান সম্পর্কিত সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের গৃহীত সামরিক পদক্ষেপের কঠোর বিরোধিতা করে তিনি বলেন, আমাকে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে হয়নি, আমি কূটনৈতিক পথ বেছে নিয়েছিলাম।
চলমান এই ৪০ দিনের প্রত্যক্ষ আগ্রাসন ও আট মাসের দীর্ঘ থমথমে পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ও সামরিক অপচয়ের চিত্র তুলে ধরে ওবামা বলেন, পেন্টাগনের হিসাবমতে এই যুদ্ধে ইতোমধ্যেই মার্কিন করদাতাদের ৪৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও অবকাঠামোয় পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
ওবামা আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের মিত্র ও ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ করা হয়েছে। আমেরিকান সেনারা নিহত হয়েছেন, শত শত মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ কমে এসেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে আরও দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। অন্যদিকে, বিশ্ব বাণিজ্যের চাবিকাঠি হরমুজ প্রণালীর ওপর এখন ইরানের পূর্ণ ভিটো পাওয়ার তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবেও হরমুজে জ্বালানি পরিবহন বন্ধ থাকা ও বাধাগ্রস্ত হওয়াকে দায়ী করেন তিনি।
বিশ্বের মোট খনিজ তেলের চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক জলসীমায় জলদস্যুতা ও সামরিক অবরোধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এই আন্তর্জাতিক নৌপথ পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হবে না।
২০১৫ সালে বারাক ওবামার আমলেই দীর্ঘ ২০ মাসের কূটনৈতিক আলোচনা শেষে ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি (জেসিপিওএ) সই হয়েছিল। চুক্তিতে যুক্ত ছিল চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া এবং যুক্তরাজ্যও। চুক্তির শর্তানুযায়ী ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত রাখতে সম্মত হয় এবং বিনিময়ে পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল।
তবে ২০১৮ সালের ৮ মে ট্রাম্প একতরফাভাবে এই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে এনে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন, যার চরম পরিণতি হিসেবে আজ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এ সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি-সিএনএন
বিশ্ববাংলা ফলো করুন
আপডেট, ভিডিও ও ব্রেকিং নিউজ পেতে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকুন।
