মোজতবা খামেনি সুস্থ আছেন, বাবার জানাজায়ও অংশ নিয়েছিলেন: ইরানি কূটনীতিক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং সুচারুভাবে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ও সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহি। এমনকি গত জুলাইয়ে বাবা প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায়ও মোজতবা খামেনি অংশ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহি আরও জানান, গত সপ্তাহেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সাত ঘণ্টাব্যাপী এক দীর্ঘ বৈঠক করেছেন সর্বোচ্চ নেতা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রথম দিনেই বিমান হামলায় নিহত হন আলি খামেনি। বাবার মৃত্যুর পরপরই সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিযুক্ত হলেও এরপর থেকে মোজতবা কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমেই যোগাযোগ রক্ষা করে আসছেন। প্রকাশ্যে কোনও অনুষ্ঠান বা সংবাদমাধ্যমে উপস্থিত হননি তিনি।
তবে সার্বিক পরিস্থিতি পরিষ্কার করে আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহি বলেন, ‘তিনি অত্যন্ত সুস্থ আছেন এবং সুন্দরভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করছেন। এমনকি আমাদের প্রেসিডেন্টও জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে তার সাত ঘণ্টার এক বৈঠক হয়েছে। আমার কিছু বন্ধুও সম্প্রতি তার সঙ্গে দেখা করেছেন। তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন এবং জানিয়েছেন, তিনি (সর্বোচ্চ নেতা) শতভাগ সুস্থ আছেন ও খুব চমৎকারভাবে নিজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।’
বাবার জানাজায় মোজতবা অনুপস্থিত ছিলেন, এমন দাবি নস্যাৎ করে এই জ্যেষ্ঠ ইরানি কূটনীতিক বলেন, বিষয়টি মোটেও সত্য নয়। তার ভাষায়, ‘নিরাপত্তাজনিত সতর্কতার কারণে তিনি মিডিয়ায় আসছেন না এবং সর্বসাধারণের সামনে দেখা দিচ্ছেন না। কিন্তু বাবার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ওই সময় আমি ইরানেই ছিলাম, তার দুই ভাইয়ের সাথে দেখা করি। সেখানে মোজতবা খামেনিও উপস্থিত ছিলেন।’
ইলাহি আরও জোর দিয়ে বলেন, ‘এমনকি মাঝেমধ্যে রাতের বেলায় রাস্তায় বের হন তিনি। ইরানের জনগণের সঙ্গে বিভিন্ন মিছিলেও অংশ নিয়েছেন সর্বোচ্চ নেতা।’ ইরানের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মোজতবা খামেনি বর্তমানে আঘাতের ক্ষত থেকে সেরে ওঠার পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে আড়ালে থেকেই দেশটির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন। দৈনন্দিন নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শীর্ষ ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত একটি ট্রাস্টকে ক্ষমতা দেয়া হলেও চূড়ান্ত কর্তৃত্ব তার হাতেই রয়েছে।
দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও ভেতরের সূত্রগুলো আরও জানায়, মূলত গুপ্তহত্যার আশঙ্কার কারণেই খামেনি সশরীরে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত রয়েছেন। তবে তিনি নিয়মিত শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করছেন এবং প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
বিশ্ববাংলা ফলো করুন
আপডেট, ভিডিও ও ব্রেকিং নিউজ পেতে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকুন।
