টঙ্গীর শিক্ষার্থীকে চুমুর ঘটনায় শিক্ষকে নেওয়া হলো আদালতে, থানায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পাল্টা অভিযোগ

গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়ায় ক্বরিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীকে চুমুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ মামলায় আসামি প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেম আহমদকে আদালতে তোলা হয়েছে।
শিশু শিক্ষার্থীকে চুমুর ঘটনায় মামলা করেছেন তার অভিভাবক শাহজালাল রুমি। তাদের বিরুদ্ধে আবার হামলা, ভাঙচুর, শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর এবং টাকা ও মুঠোফোন লুটের পাল্টা অভিযোগ করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
গ্রেপ্তার মো. মোসলেম আহমদের বাড়ি কুড়িগ্রামের রৌমারী থানার কর্তিবাড়ী মাস্টারপাড়া এলাকায়। তিনি টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং ক্বরিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে কর্মরত।
মামলার এজাহার ও পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত মাদ্রাসাটির নিচতলার সিঁড়িতে ওই ছাত্রীর সঙ্গে যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেম আহম্মদকে অভিযুক্ত করা হয়।
শিশুটির পরিবারের দাবি, ঘটনার পর কয়েক দিন সে মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। প্রথমে কিছু না বললেও পরে মা-বাবার কাছে বিষয়টি প্রকাশ করে। পরিবারের অভিযোগ, কাউকে জানালে শিশুটিকে মারধর করা হবে বলে ভয় দেখানো হয়েছিল। এ কারণে সে ভয়ে ঘটনাটি গোপন রেখেছিল।
শিশুর কাছ থেকে অভিযোগ শোনার পর তার অভিভাবক শাহজালাল রুমি মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে বিষয়টি জানতে চান। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত উত্তেজিত লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোসলেম আহম্মদকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
শাহজালাল রুমির করা মামলাটি ২২ অক্টোবর টঙ্গী পশ্চিম থানায় নথিভুক্ত হয়। মামলার নম্বর ২৪। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০’র ১০ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে বলে সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। শাহজালাল রুমি বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত ভাইস প্রিন্সিপালকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
এদিকে, মামলার বাদী শাহজালাল রুমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, তাকে হুমকি দিয়ে লাভ হবে না। তিনি সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে প্রতিবাদ করেছেন বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের কাছে সুবিচার চান।
অন্যদিকে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ক্বারি আলমাসের দাবি, একদল লোক প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ, হামলাকারীরা নগদ প্রায় ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন নিয়ে গেছে। কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী আহত হয়েছেন এবং নারী শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়েছে।
বিশ্ববাংলা ফলো করুন
আপডেট, ভিডিও ও ব্রেকিং নিউজ পেতে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকুন।
