আন্তর্জাতিক এমিতে মনোনয়ন পেল ‘হাসিনা: ৩৬ ডেজ ইন জুলাই’

বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলন ও ওই সময়ের ৩৬ দিনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘হাসিনা: ৩৬ ডেজ ইন জুলাই’ ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক এমি অ্যাওয়ার্ডসে মনোনয়ন পেয়েছে।কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা ইংলিশের প্রযোজনাটি ‘কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স’ বিভাগে মনোনীত হয়েছে।
আল জাজিরার ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিটের নির্মিত এই প্রামাণ্যচিত্রের প্রধান অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন জুলকারনাইন সায়ের খান। জুলাই আন্দোলন ঘিরে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা, প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে মনোনয়নের খবর জানান জুলকারনাইন সায়ের খান।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এই চলচ্চিত্রটি সবার আগে বাংলাদেশের সেই মানুষদের, যারা ওই ৩৬টি দিন নিজের চোখে দেখেছেন ও জীবন দিয়ে পার করেছেন: শিক্ষার্থী, শ্রমিক, পরিবার এবং যারা সেই দিনগুলোতে প্রাণ হারিয়েছেন। অনেকেই ব্যক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত বড় ঝুঁকি নিয়ে আমাদের কাছে তাদের সাক্ষ্য তুলে ধরেছেন। এই স্বীকৃতি তাদের।’
তিনি লিখেন, ‘বাংলাদেশের কোনো গল্পের জন্য ইন্টারন্যাশনাল এমিসের মঞ্চে পৌঁছানো এখনও খুবই বিরল। আমার জানা মতে, সর্বশেষ ২০০৪ সালে বাংলাদেশ থেকে এমন স্বীকৃতি এসেছিল, যখন এটিএন বাংলার জন্য বাংলাদেশের কিশোরদের তৈরি তথ্যচিত্র “আমরাও পারি” বিশেষ ইন্টারন্যাশনাল এমি সম্মাননা পেয়েছিল।’
জুলকারনাইন আশা প্রকাশ করে লিখেন, ‘হাসিনা: ৩৬ ডেজ ইন জুলাই-এর এই মনোনয়ন বাংলাদেশের আরও অনেক প্রতিভাবান সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতার কাজ আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছানোর পথ কিছুটা সহজ করবে।’
প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণে যুক্ত আল জাজিরার ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিটের সহকর্মী এবং পর্দার আড়ালে কাজ করা সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি। ঘটনাগুলো সত্যনিষ্ঠভাবে তুলে ধরতে পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন।
এবার আন্তর্জাতিক এমির ‘কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স’ বিভাগে ‘হাসিনা: ৩৬ ডেজ ইন জুলাই-এর সঙ্গে ফ্রান্সের ‘মাই ফাদার্স হেয়ার’, যুক্তরাজ্যের ‘ব্রেকিং র্যাঙ্কস: ইনসাইড ইসরায়েলস ওয়ার’ এবং ব্রাজিলের ‘ফেমিনিস’ মনোনীত হয়েছে।
আগামী ২৩ নভেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক এমি অ্যাওয়ার্ডসের আসর। সেখানেই বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।
নিজের পোস্টের শেষাংশে জুলকারনাইন বলেন, ২৩ নভেম্বর নিউইয়র্কে যা-ই ঘটুক না কেন, এই কাজের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে এটি জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে কি না, তার ওপর।
বিশ্ববাংলা ফলো করুন
আপডেট, ভিডিও ও ব্রেকিং নিউজ পেতে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকুন।
