Bisswa Bangla

আমাকে ৭০-৮০টি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে: গাজী সালাউদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
আমাকে ৭০-৮০টি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে: গাজী সালাউদ্দিন

পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ ও কারাবাসের সময় তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীর। পুলিশ হেফাজতে তাকে অন্তত ৭০ থেকে ৮০টি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

গাজী সালাউদ্দিনের ভাষ্যমতে, সাইবার সুরক্ষা আইনের এক মামলায় গত ৫ আগস্ট ঢাকার পূর্ব মনিপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে বগুড়া সদর থানা পুলিশ রিমান্ডে নেয়। গ্রেপ্তার দিন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।

হেফাজতে থাকাকালে তাকে অজানা অন্তত ৭০ থেকে ৮০টি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমার শরীরে অসংখ্য ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে, যা কীসের তা আমি জানি না। সারাক্ষণ জ্বর থাকত আর তারা ইনজেকশন দিত। একদিন হাত-পা কাঁপতে থাকলে ডাক্তার এসে ইনজেকশন দেওয়ার পর আমার ডান হাত ও ডান পা অবশ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে আমাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক জানান আমার স্ট্রোক হয়েছে, কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করে।

কারাগারের পরিবেশ ও খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ তুলে এনসিপির সাবেক এই নেতা বলেন, ৫ আগস্ট তাকে বগুড়া কারাগারের একটি চরম অপরিচ্ছন্ন, আলো-বাতাসহীন ও বিদ্যুৎহীন সেলে রাখা হয়। সেখানে তাকে খাওয়ার অযোগ্য ও পচা খাবার দেওয়া হতো, যার ফলে তিনি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ না দিয়ে তাকে খোলা অজানা ওষুধ খেতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, তাকে শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজের একটি অচল এমআরআই মেশিনে প্রবেশ করানো হয়। সেখানে বিকট শব্দে মেশিন বন্ধ হয়ে গেলে কোমর থেকে পা পর্যন্ত অবশ হয়ে তিনি ১০-১২ ঘণ্টা অজ্ঞান ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা পিজি হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) পাঠানো হয়।

তানভীরের দাবি, হাসপাতাল থেকে জেলে নেওয়ার পথে সাদা পোশাকের কয়েকজন ব্যক্তি গাড়িতে উঠে তার ওপর নির্যাতন চালায় এবং একটি শিল্পগোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করে গালিগালাজ করে। এছাড়া পরবর্তীতে অন্ধকার কক্ষে নিয়ে নির্যাতনের সময় জুলাই আন্দোলনের একাধিক সমন্বয়ক ও নেতার নাম ধরে তাদেরও একই পরিণতি হবে বলে হুমকি দেয়।

কারাগারের ভেতরের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রযন্ত্রের মধ্যে বিগত সরকারের প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। কারাগারে থাকা বিগত সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সেখানে আরাম-আয়েশে আছেন এবং রাতে সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন, যা তিনি স্বচক্ষে দেখেছেন। নির্যাতনের কথা প্রকাশ করলে পরিবারের সদস্যদের গুম করার হুমকি দেয় বলে জানান তিনি।

এর আগে বগুড়া সদর থানা বিএনপির এক নেতার করা মামলায় সালাউদ্দিন তানভীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

বিশ্ববাংলা ফলো করুন

আপডেট, ভিডিও ও ব্রেকিং নিউজ পেতে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকুন।

সর্বশেষ

১জামায়াত-আ’লীগের পুরাতন প্রেম জাগ্রত হয়েছে: রাশেদ খাঁন২জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর বক্তব্য বয়কট করেছে বাংলাদেশসহ ৭৭ দেশ৩ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিৎ: ডিএমপি৪‎জামায়াত-শিবির সমর্থন কি অপরাধ- প্রশ্ন নিয়োগবঞ্চিত জবির সাবেক শিক্ষার্থীর৫আন্তর্জাতিক এমিতে মনোনয়ন পেল ‘হাসিনা: ৩৬ ডেজ ইন জুলাই’৬মমতাময়ী মাকে সম্মান দিতে গিয়ে স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়িকে অপমান করা যাবে না: ডা. শফিকুর রহমান৭দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: সালাউদ্দিন টুকু৮শিশুর আঙুল কেটে ফেলার অভিযোগে স্ত্রীসহ কনস্টেবল গ্রেপ্তার, ‘পুলিশের স্ত্রী’ পরিচয়ে দেননি ৬ মাসের ভাড়া

সর্বাধিক পঠিত