চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার ৪ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে এবং জেলা কৃষি বিভাগ এ বছর ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা গত বছরের চেয়ে ৯১২ মেট্রিক টন বেশি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা উপ-পরিচালক ড. ইয়াছিন আলী জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিশেষ আবহাওয়া, মাটির গুণাগুণ ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এখানকার আম দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় সুস্বাদু হলেও কিছুটা দেরিতে পাকে। ইতোমধ্যে গত ১৪ মে থেকে জেলার কয়েকটি স্থানে গুটি ও গোপালভোগ জাতের পাকা আম পাওয়া যাচ্ছে এবং চাষিরা আশা করছেন ২০ থেকে ২৫ মের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে হারভেস্টিং শুরু হবে।
এ বছর আম পাড়ার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জানান, গত ১১ মে আম চাষিদের সম্মতিতে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে এবার কোনো ম্যাংগো ক্যালেন্ডার থাকবে না। গাছে আম পরিপক্ব হলেই সরাসরি বাজারে বিক্রি করা যাবে। ভোক্তাদের কাছে নিরাপদ আম পৌঁছে দিতে এবং চাষিদের সুবিধার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি স্পষ্ট করেন। কানসাটের সর্ববৃহৎ আম বাজারের আড়তদার বাবুল মেম্বার জানান, ২০ মের পর থেকেই আম কেনা শুরু হবে এবং সেই প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন।
তবে উৎপাদনের এই আশাবাদী চিত্রের আড়ালে প্রান্তিক চাষিদের পুরনো যন্ত্রণা এবারও সমানভাবে জেগে উঠেছে। শিবগঞ্জ উপজেলার আম চাষি মনিরুল ইসলাম ক্ষোভের সঙ্গে জানান, যেখানে ৪০ কেজিতে এক মন হওয়ার কথা, সেখানে জায়গাভেদে ৫০ থেকে ৫৫ কেজিতে এক মন গণনা করা হয়। আর তিনি যে আম ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেন, সেই একই আম ঢাকাসহ অন্যত্র গিয়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়। মধ্যস্বত্বভোগীরা মোটা মুনাফা নিলেও চাষির ঘরে আসে সামান্য। জেলা প্রশাসক ওজনের এই দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু সেই আলোচনা কবে ফলে পরিণত হবে, সেটাই এখন মনিরুলদের মতো লাখো প্রান্তিক চাষির একমাত্র জিজ্ঞাসা।
বিশ্ববাংলা ফলো করুন
আপডেট, ভিডিও ও ব্রেকিং নিউজ পেতে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকুন।
