ডিসেম্বরে ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ, পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতে যাবে বাংলাদেশ

ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে শনিবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাসানী জনশক্তি পার্টির আয়োজিত আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরেই শেষ হচ্ছে এবং এই চুক্তি নবায়ন হবে কি না সেটি এখন জাতীয় অস্তিত্বের প্রশ্ন। তিনি বলেন, ফারাক্কা, গঙ্গা আর তিস্তা কোনো দলীয় ইস্যু নয়, এগুলো বাংলাদেশের কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার ভিত্তি এবং এই নদীগুলোর ন্যায্য পানির হিস্যা আদায়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতেই হবে।
মির্জা ফখরুল সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্তকে সময়োচিত উল্লেখ করে বলেন, এই ব্যারাজ একদিকে ভারতের ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে, অন্যদিকে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে দশকের পর দশক ধরে চলে আসা মরুকরণ ও লবণাক্ততার সমস্যা মোকাবেলার সুযোগ তৈরি করবে। তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন প্রধান বক্তা হিসেবে বলেন, মাওলানা ভাসানী অসুস্থ শরীরে জীবনের শেষ রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে এই লংমার্চ সম্পন্ন করে প্রমাণ করে গেছেন যে পানিসম্পদের সুষম বণ্টন না হলে ভাটির দেশ বাংলাদেশের পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, আর সেই বণ্টন নিশ্চিত করতে চুক্তির পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সঠিক কূটনৈতিক সম্পর্কও অপরিহার্য।
সভাপতির বক্তব্যে ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু ঘোষণা করেন যে আগামী ১২ ডিসেম্বর গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বাংলাদেশ ভারতের কাছে চুক্তি নবায়ন এবং ৫৪টি অভিন্ন নদীর ন্যায্য পানির হিস্যার দাবি জানাবে এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালত ও জাতিসংঘ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে। পঞ্চাশ বছর আগে মাওলানা ভাসানী যে লড়াই শুরু করেছিলেন, তার উত্তরসূরিরা আজ সেই একই দাবি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন শহীদ মিনারে, কিন্তু প্রশ্ন হলো এবার কি শুধু বক্তৃতায় থামবে, নাকি ডিসেম্বরের আগেই কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে?
বিশ্ববাংলা ফলো করুন
আপডেট, ভিডিও ও ব্রেকিং নিউজ পেতে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকুন।
