রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় একক অবকাঠামো প্রকল্পটি এবার বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দোরগোড়ায় এসে দাঁড়াল। মঙ্গলবার (১২ মে) পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে পারমাণবিক জ্বালানি প্রবেশ করানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে মোট ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি চুল্লিপাত্রে স্থাপন করা হয়েছে। রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আগামী আগস্টে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক এবং অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেক্সি ডেইরি জানিয়েছেন, পুরো জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং নির্ধারিত পরিচালনাগত বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলা হয়েছে। এখন পরবর্তী ধাপে চুল্লিপাত্রের উপরের অংশ স্থাপন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ইন-কোর ইনস্ট্রুমেন্টেশন সিস্টেম সংযুক্ত করা হবে। তারপর সমস্ত প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে বহুবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে। এরপর চুল্লিপাত্রকে ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন স্তরে নিয়ে ধীরে ধীরে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে মোট দুটি ইউনিট নির্মিত হচ্ছে, প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দশকের পর দশক ধরে বিদ্যুৎ সংকটে জর্জরিত একটি দেশের জন্য রূপপুরের এই অগ্রগতি নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, তবে জ্বালানি লোডিং থেকে পূর্ণমাত্রায় বাণিজ্যিক উৎপাদন পর্যন্ত যে দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথ পার করতে হবে, সেটি কতটা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় তার ওপরেই নির্ভর করছে বাংলাদেশের পারমাণবিক যুগে প্রবেশের আসল দিনটি।
বিশ্ববাংলা ফলো করুন
আপডেট, ভিডিও ও ব্রেকিং নিউজ পেতে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকুন।
