তিন মেয়ে ও ভাইয়ের সঙ্গে পাশাপাশি কবরে চিরনিদ্রায় শারমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক : গোপালগঞ্জের পাইককান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামে রোববার সকালে যে দৃশ্য দেখা গেছে, তা দেখে পাথর হৃদয়ও গলে যাওয়ার কথা। দুটি ফ্রিজিং ভ্যান এসে থামল গ্রামের মাটিতে, আর তার ভেতরে শুয়ে আছেন ৩০ বছরের শারমিন আক্তার, তাঁর পনেরো বছরের মেয়ে মীম, আট বছরের উম্মে হাবিবা, মাত্র দুই বছরের ছোট্ট ফারিয়া এবং শারমিনের ২২ বছর বয়সী ছোট ভাই রসুল মিয়া। গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই রাতে একই ছাদের নিচে পাঁচটি তাজা প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে, আর সেই লাশ এখন ফিরে এসেছে গ্রামের মাটিতে, চিরদিনের জন্য।
সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে মরদেহবাহী গাড়ি গ্রামে ঢোকার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শত শত মানুষ ছুটে আসেন। প্রিয়জনকে শেষবারের মতো একনজর দেখার জন্য যে ভিড় জমেছিল, সেখানে কান্নার শব্দ ছাড়া আর কোনো কথা ছিল না। স্বজনদের আহাজারিতে গোটা এলাকার বাতাস যেন ভারী হয়ে উঠেছিল। বেলা ১১টায় পাইককান্দি পঞ্চপল্লী মাদ্রাসা মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাই এসেছিলেন সেই জানাজায়। এরপর উত্তর চরপাড়া নতুন কবরস্থানে পাশাপাশি পাঁচটি কবর খোঁড়া হলো, আর একই পরিবারের পাঁচজনকে একসঙ্গে মাটি দেওয়া হলো। যারা দেখেছেন, তাদের চোখের পানি আর থামেনি।
শনিবার সকালে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা পূর্বপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ পাঁচজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলে পাওয়া গেছে চিরকুট, টাইপ করা অভিযোগপত্র এবং মাদকসেবনের আলামত। শারমিনের স্বজনরা বলছেন, পারিবারিক কলহ আর স্বামী ফোরকান মিয়ার অস্বাভাবিক সন্দেহপ্রবণ আচরণই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। ফোরকানের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে দম্পতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিরোধ চলছিল। হত্যার পরপরই ফোরকান পালিয়ে যান এবং পুলিশ জানিয়েছে, পালানোর আগে সে নিজেই কয়েকজন স্বজনকে ফোন করে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। এরপর মোবাইল বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে গেছে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দ্রুত ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মরদেহ স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কাপাসিয়া থানার ওসি শাহীনুর আলম জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ, ডিবি, পিবিআই ও সিআইডি একযোগে কাজ করছে এবং মূল আসামি ফোরকানকে ধরতে সর্বাত্মক তৎপরতা চলছে।
বিশ্ববাংলা ফলো করুন
আপডেট, ভিডিও ও ব্রেকিং নিউজ পেতে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকুন।
