ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধে চীন ধরাশায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দ্বিতীয় শক্তি এখন বাংলাদেশ

ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কের আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে চীনের রপ্তানি কার্যত অর্ধেকে নেমে এসেছে, আর সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবারের মতো চীনকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থান দখল করে নেয় বাংলাদেশ, আর মার্চ শেষেও সেই অবস্থান ধরে রেখেছে দেশটি। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল অর্থাৎ অটেক্সার সর্বশেষ পরিসংখ্যান এই চিত্রটাই সামনে এনেছে।
অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকেরা বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ১ হাজার ৭৭৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক কিনেছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ কম। এই সামগ্রিক পতনের মধ্যেও বাংলাদেশ ২০৪ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যদিও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তা ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ কম। সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে চীন, গত বছরের প্রথম তিন মাসে যেখানে দেশটি ৩৬১ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল, এ বছর তা নেমে এসেছে মাত্র ১৭০ কোটি ডলারে, পতনের হার প্রায় ৫৩ শতাংশ।
শীর্ষে অবশ্য ভিয়েতনাম অটল। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশটি ৩৯৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি। বাজার হিস্যার ২২ শতাংশ এখন ভিয়েতনামের দখলে, আর বাংলাদেশের কাছে আছে সাড়ে ১১ শতাংশ। শীর্ষ পাঁচ রপ্তানিকারকের মধ্যে একমাত্র ভিয়েতনামই প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে, বাকি সবার রপ্তানি কমেছে।
চীনের এই নাটকীয় পতনের পেছনে আছে ট্রাম্পের শুল্কনীতির সরাসরি প্রভাব। চীনের তুলনায় বাংলাদেশের শুল্কহার অনেকটাই কম থাকায় ক্রয়াদেশ বাড়তে শুরু করেছিল। কিন্তু সেই সুবাতাস বেশিদিন টেকেনি, কারণ শুল্কের চাপে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়ায় ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে।
চীনের পতনে যে সুযোগের দরজা খুলেছিল, সেটা পুরোপুরি কাজে লাগাতে না পারলে বৈশ্বিক বাণিজ্যের এই অনিশ্চিত সময়ে বাংলাদেশের পোশাক খাত আসলে কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, সেই প্রশ্নটা এখন সবচেয়ে জরুরি।
বিশ্ববাংলা ফলো করুন
আপডেট, ভিডিও ও ব্রেকিং নিউজ পেতে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকুন।
