
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে আলেম-ওলামাদের করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভায় রোববার (১৭ মে) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, প্রয়োজনে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে তিনি রাজি, তবে আলেম-ওলামাদের ওপর কোনো অবিচার বা জুলুম হতে দেবেন না। তিনি আরও জানান, মাদ্রাসাগুলোকে যেন বঞ্চিত করা না হয় এবং তাদের প্রতি যেন অবিচার না হয়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন এবং সরকার সেই নির্দেশনার প্রশ্নে সোচ্চার রয়েছে।
চামড়া সংরক্ষণের প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে অতীতে ন্যায্য দাম না পেয়ে কুরবানির চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলার মতো লজ্জাজনক ঘটনা ঘটেছে এবং এবার যেন তার পুনরাবৃত্তি না হয়, সেই দায়িত্ব আলেমসমাজকেই নিতে হবে। চামড়ার গুণগত মান ধরে রাখতে সঠিকভাবে চামড়া ছাড়ানো ও সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি চামড়া সিন্ডিকেট ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে তিনি কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এদেশের আলেমসমাজ একটি প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হতে পারলে অনেককিছুই সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ।
সভায় ধর্মমন্ত্রী ১৯৭৯ সালের গণভোটে কওমি আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ ও মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পক্ষে অবদানের কথা স্মরণ করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি জানান, স্বাধীনতার পর থেকে কোনো সরকারপ্রধান ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতার কথা ভাবেননি, কিন্তু তারেক রহমান সেই উদ্যোগ নিয়েছেন এবং পর্যায়ক্রমে সারা দেশের মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মীরা এই ভাতার আওতায় আসবেন। চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান উপস্থিত আলেম-ওলামারাও, কারণ চামড়ার ন্যায্য দাম নিশ্চিত না হলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের লক্ষ লক্ষ এতিম ও দরিদ্র মানুষ, যাদের জন্যই এই চামড়ার অর্থ বরাদ্দ থাকে।
বিশ্ববাংলা ফলো করুন
আপডেট, ভিডিও ও ব্রেকিং নিউজ পেতে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকুন।
