Bisswa Bangla

নিবন্ধন নবায়ন ছাড়াই চলছে মিরপুরের বাংলাদেশ আই হাসপাতাল, অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত ৬ ওষুধের নেই অনুমতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ জুন ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
নিবন্ধন নবায়ন ছাড়াই চলছে মিরপুরের বাংলাদেশ আই হাসপাতাল, অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত ৬ ওষুধের নেই অনুমতি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ। তবু প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধন নবায়নের প্রয়োজন মনে করেনি। পরিবেশ ছাড়পত্রের মেয়াদও শেষ গত বছরের ৩০ জুন, সেটারও নবায়ন হয়নি। এ রকম বেশ কিছু অনিয়মের ওপর ভর করে চিকিৎসা কার্যক্রম চালাচ্ছে বাংলাদেশ আই হাসপাতাল মিরপুর শাখা। হাসপাতালটির নথিপত্র বিশ্লেষণ করে এসব অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে।

হাসপাতালটিতে চোখের অস্ত্রোপচারের সময় ব্যথা নিয়ন্ত্রণ ও রোগী অজ্ঞানের জন্য ছয় ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এসব ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিবন্ধন নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে প্রায় সাত বছর ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও হাসপাতালটি এ ধরনের কোনো নিবন্ধন নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। 

স্বাস্থ্য সেবা খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত নিয়ন্ত্রিত ওষুধের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকলে তা আইনি ও রোগী নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সাধারণত এসব ওষুধ ব্যবহার করলে অনেক সময় রোগীর জ্ঞান ফিরতে দেরি হয়। তখন আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া লাগে। যেহেতু এই হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা নেই, তাই এসব ওষুধ ব্যবহার বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হাসপাতাল পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিবন্ধন, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং নিয়ন্ত্রিত ওষুধ ব্যবহারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এসবের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হলে তা নিয়ম লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে। 

কয়েকজন রোগী দাবি করেছেন, অস্ত্রোপচারের প্যাকেজের নামে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। ওটি চার্জ, সিট ভাড়া ও ওষুধের খরচের পাশাপাশি বিভিন্ন সার্ভিস চার্জের নামে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া প্যাকেজের মধ্যে লেন্সের দাম আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয় না, ফলে রোগীকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। 

বাংলাদেশ আই হাসপাতালের ১১টি শাখা রয়েছে। সাত বছর আগে মিরপুর-২-এর সুমি টাওয়ারে চারটি তলা ভাড়া নিয়ে শাখাটির কার্যক্রম শুরু হয়। গত বুধবার ওই হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সুমি টাওয়ারের তৃতীয় তলায় অভ্যর্থনা ডেস্কের পাশে হাসপাতালের লাইসেন্স-সংক্রান্ত কাগজ টাঙানো রয়েছে। সেখানে নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ হিসেবে ৩০ জুন ২০২৫ উল্লেখ রয়েছে। তবে নোটিশ বোর্ডে লেন্সের মূল্য তালিকা দেখা যায়নি, যদিও এটি প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। অস্ত্রোপচার প্যাকেজের খরচের তালিকায়ও লেন্সের মূল্য আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। জানতে চাইলে অভ্যর্থনা ডেস্কে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বলেন, এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে হবে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালভেদে চোখের অস্ত্রোপচারে ৩০ হাজার থেকে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। তবে রোগীর দেওয়া বিলে লেন্সের দাম আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয় না। অথচ ঔষধ প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, রোগীকে লেন্সের নাম, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য এবং উৎপাদনকারী দেশের তথ্য উল্লেখ করে রসিদ দিতে হয়। এ ছাড়া ফ্যাকো সার্জারির পর রোগীকে লেন্সের প্যাকেট সরবরাহ করারও নিয়ম রয়েছে।

সমকালের হাতে আসা নথি বলছে, ১৪ জুন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মুসাইফা নামে এক রোগীর চোখের অশ্রুনালিতে অস্ত্রোপচার করা হয়। সংশ্লিষ্ট নথিতে দেখা গেছে, অস্ত্রোপচারের সময় জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এসব ওষুধ ব্যবহারের নিবন্ধন হাসপাতালটির নেই।

এ ছাড়া গত শুক্রবার আব্দুস সামাদের ইভিসেরেশনসহ পিএমএমএ বল ইমপ্লান্ট স্থাপনের অস্ত্রোপচার করা হয়। সেখানেও ওই অস্ত্রোপচারে জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া ব্যবহার করা হয়েছে। আব্দুস সামাদ বলেন, অস্ত্রোপচারের আগে কত টাকা খরচ হবে বা কোন খাতে কত টাকা লাগবে, সে বিষয়ে আমাদের স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি।

বাংলাদেশ আই হাসপাতাল অ্যান্ড ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাকিয়া ওয়াদুদ বলেন, নিবন্ধনের বিষয়ে গভর্নিং বডির সঙ্গে কথা বলুন। আবেদন করছেন কিনা– জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি অফিসে যোগাযোগ করুন।

প্রতিষ্ঠানটির চিফ অপারেটিং অফিসার ডা. কাজী মেজবাহুল আলম বলেন, নিবন্ধন নবায়নের বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি। যেসব ওষুধ ব্যবহারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিবন্ধন প্রয়োজন, সেসব ওষুধ আমরা ব্যবহার করি না। যদিও প্রতিদিন এই ওষুধ ব্যবহার হচ্ছে– এমন নথি সমকালের হাতে রয়েছে।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. নিয়াজ আবদুর রহমানের সঙ্গে গত শনিবার কথা বলেছে সমকাল। তিনি দাবি করেন, দেশের অনেক বেসরকারি হাসপাতাল এভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। আমরা নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছি। তবে সমকাল খোঁজ নিয়ে দেখেছে, গত শনিবার পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এ ধরনের কোনো আবেদন জমা পড়েনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মঈনুল আহসান বলেন, নিবন্ধন নবায়ন ছাড়া হাসপাতাল পরিচালনার সুযোগ নেই। তথ্য যাচাই করে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব। সূত্র: সমকাল

বিশ্ববাংলা ফলো করুন

আপডেট, ভিডিও ও ব্রেকিং নিউজ পেতে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকুন।

সর্বশেষ

সম্পদের পাহাড় গড়েছেন রাজউকের পলাশ; বললেন- ‘আমি সাধু নই’মেট্রোরেলে ৭৩০ ত্রুটিপূর্ণ বেয়ারিং প্যাড, পিয়ারে মিলেছে ফাটলযাদের ফার্মের মুরগি বলছেন, তারাই আন্দোলন করে আপনাকে শিক্ষামন্ত্রী বানিয়েছে: হাসনাতসরকারের মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ২২.৬ লাখ কোটি টাকা: আমির খসরু১৬০ কোটির কাজ ২০১ কোটিতে! জাইকা প্রকল্পের টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ ড. তারিকুলের বিরুদ্ধেBeyond Outsourcing: How Betopia Is Building Bangladesh’s Next Global Enterprise AI Companyনাম-রেজিস্ট্রেশন মিলিয়ে ভুয়া সনদ, প্রবাসীদের কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রিয়াজের বিরুদ্ধেবন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সর্বাধিক পঠিত

‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’ : মমতা'সবার আগে বাংলাদেশ' গানে কপিরাইট বিতর্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভিডিও প্রচারে জটিলতা১৭ কোটি টাকার প্রতারণা ও আত্মসাৎ মামলা: ফাস্ট গ্রুপের সিইও আব্দুল্লাহ আল রাফে কারাগারেচেন্নাইয়ে লিভার ফেইলিউরে মারা গেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারস্বাধীনতার ৫০ বছরে বহু প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: জামায়াত আমির ড. শফিকুর রহমানযুক্তরাষ্ট্রে আঘাতে সক্ষম পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করছে রাশিয়া‘স্টেমসেল থেরাপির’ নামে ৫ লাখ টাকার একেকটি ইনজেকশন! ভূঁয়া ডাক্তার মুজিবুলের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগইরানের ইউরেনিয়ামের কাছে গেলেই উড়িয়ে দেওয়া হবে: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি