Bisswa Bangla

আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বাদ, ‘গুপ্ত জামায়াত’ হিরন আওয়ামী লীগের আইন সহায়ক কমিটিতে!

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম
আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বাদ, ‘গুপ্ত জামায়াত’ হিরন আওয়ামী লীগের আইন সহায়ক কমিটিতে!
ঢাকা জজকোর্টের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান (হিরন)

নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের আইনি সহায়তার জন্য গঠিত ‘বাংলাদেশ আইন সহায়ক পরিষদ’ আত্মপ্রকাশের পর থেকেই প্রশ্নের মুখে। দুঃসময়ে শত শত নেতা-কর্মীর পাশে থাকা আইনজীবীদের কয়েকজনকে কমিটিতে না রাখা, আর মাহবুবুর রহমান হিরনের মতো বিতর্কিত রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগ ওঠা একজনকে কেন্দ্রীয় সদস্য করায় দলের তৃণমূলের ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।

রাখি বাদ, হিরনকে ঘিরেই কেন এত প্রশ্ন?

সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের আইনি সহায়তায় সক্রিয় আইনজীবীদের মধ্যে ফারজানা ইয়াসমিন রাখির নাম আলোচনায় আসে। শতাধিক নেতা-কর্মীর মামলা পরিচালনা থেকে শুরু করে জামিন শুনানি—বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কথা সামনে এসেছে। নিজের নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়েও তিনি কাজ করেছেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। অথচ এমন একজন আইনজীবীর নাম কমিটিতে না থাকায় তৃণমূলের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে, কমিটি গঠনে দুঃসময়ের ভূমিকা কতটা গুরুত্ব পেয়েছে।

রাখি অবশ্য জানিয়েছেন, তিনি কোনো পদ-পদবির প্রত্যাশায় নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়াননি। তবে দুঃসময়ে কাজ করা আইনজীবীদের মূল্যায়ন করা হলে তাঁদের কাজের আগ্রহ আরও বাড়ত বলে মনে করেন তিনি।

হিরনের রাজনৈতিক অতীত নিয়ে মুখোমুখি দুই দাবি

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে মাহবুবুর রহমান হিরনের অন্তর্ভুক্তিই এখন বিতর্কের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। তাঁর বিরুদ্ধে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন হিরন। তাঁর দাবি, ছাত্রজীবনে তিনি কোনো ছাত্রসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং পরবর্তীতে আওয়ামীপন্থী আইনজীবী রাজনীতির সঙ্গেই যুক্ত হন। ফলে একই ব্যক্তিকে ঘিরে সামনে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি বক্তব্য। এক পক্ষ তাঁর অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্য পক্ষের বক্তব্য—অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া তাঁকে রাজনৈতিকভাবে চিহ্নিত করা ঠিক নয়।

‘জামিন বাণিজ্য’—অভিযোগের তীরও হিরনের দিকে

বিতর্কের আরেকটি বড় বিষয় ‘জামিন বাণিজ্য’-এর অভিযোগ। দলের একাংশের দাবি, বিপদে থাকা নেতা-কর্মীদের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে আইনি সহায়তার নামে বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়া হচ্ছে।অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা হিরন অবশ্য এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর বক্তব্য, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি বহু নেতা-কর্মীর মামলা ও জামিনের ক্ষেত্রে সহায়তা করেছেন এবং অনেক ক্ষেত্রেই কোনো পারিশ্রমিক নেননি।

অর্থাৎ, ‘জামিন বাণিজ্য’ নিয়ে এখন পর্যন্ত সামনে রয়েছে পরস্পরবিরোধী দাবি। ফলে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নির্দিষ্ট মামলা, অর্থ লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসা জরুরি হয়ে উঠেছে।

আইন সহায়ক পরিষদ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে আওয়ামী লীগের এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, কমিটি গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। দুঃসময়ে দলের নেতা-কর্মীদের পাশে থাকা আইনজীবীদের পর্যায়ক্রমে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে তৃণমূলের প্রশ্ন—যাঁরা কঠিন সময়ে সামনে থেকে আইনি লড়াই করেছেন, তাঁদের মূল্যায়ন করতে আর কত সময় লাগবে? একই সঙ্গে হিরনের বিরুদ্ধে ওঠা রাজনৈতিক পরিচয় ও পেশাগত অনিয়মের অভিযোগগুলোও যথাযথভাবে যাচাই করার দাবি উঠেছে।

বিশ্ববাংলা ফলো করুন

আপডেট, ভিডিও ও ব্রেকিং নিউজ পেতে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকুন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’ : মমতাঅপ্রতিমের মা ড. নাহিদার চব্বিশের সেই ফেসবুক পোস্ট আলোচনায়ন্যাম ভবনের কক্ষে জামায়াত থেকে বহিস্কৃত এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারফ্ল্যাটে মিললো স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ, পাশের কক্ষে ছিলেন এমপি গাজী নজরুল'সবার আগে বাংলাদেশ' গানে কপিরাইট বিতর্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভিডিও প্রচারে জটিলতা১৭ কোটি টাকার প্রতারণা ও আত্মসাৎ মামলা: ফাস্ট গ্রুপের সিইও আব্দুল্লাহ আল রাফে কারাগারেআওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের দিল্লীতে ডেকেছেন শেখ হাসিনাচেন্নাইয়ে লিভার ফেইলিউরে মারা গেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার