জীবিকার তাগিদে হতে চেয়েছিলেন ফায়ার ফাইটার, এখন তিনি বিশ্বকাপে

মাত্র ছয় বছর আগে বুটজোড়া তুলে রেখে দমকলের ইউনিফর্ম গায়ে চাপানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন হাজেম মাস্তুরি — আর আজ সেই মানুষটাই ২০২৬ বিশ্বকাপে তিউনিসিয়ার আক্রমণের অন্যতম প্রধান অস্ত্র। ১৯৯৭ সালে তিউনিসে জন্ম নেওয়া এই ২৮ বছর বয়সী স্ট্রাইকারের গল্প কোনো হলিউড চিত্রনাট্যকারও এত নিখুঁতভাবে লিখতে পারতেন না — কারণ বাস্তবতা সবসময় কল্পনাকে হার মানায়।
২০১৯ সালে মাস্তুরি খেলছিলেন তিউনিসিয়ার তৃতীয় বিভাগের অপেশাদার দল দেগুচ এফসিতে। পরের বছর দ্বিতীয় স্তরে, তারপর শীর্ষ লিগে — কিন্তু গোলের চেয়ে বেশি করতে হয়েছে টিকে থাকার লড়াই। যৎসামান্য বেতন, প্রতিনিয়ত দলবদল আর ক্যারিয়ারের চরম অনিশ্চয়তায় একটা সময় দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায় তার। স্থায়ী আয় আর পরিবারের মুখে দুটো ভাত তুলে দিতে ফায়ারফাইটার হওয়ার প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা করেন — ফুটবলের স্বপ্নটা তখন প্রায় কবর দিয়েই ফেলেছিলেন।
কিন্তু ভেতরের আগুনটা পুরোপুরি নেভেনি। ২০২৩ সালে প্রচারের আলো থেকে সরে গিয়ে ইরাকের ক্লাব আল-নাজাফ এসসিতে যোগ দেন মাস্তুরি — স্পটলাইটের বাইরে নিজেকে নতুন করে খোঁজার এই সিদ্ধান্তটাই জীবন পাল্টে দেয়। ২০২৪ সালে তিউনিসিয়ার ক্লাব ইউএস মোনাস্টিরে যোগ দিয়ে রীতিমতো বিস্ফোরণ ঘটান তিনি। গতি, ড্রিবলিং আর ডি-বক্সের ভেতর নিখুঁত ফিনিশিং মিলিয়ে সে মৌসুমে করলেন ১৭টি গোল — এবং সেই পারফরম্যান্সেই প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের ডাক এলো।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের জাত চিনিয়ে দিতে সময় নেননি তিনি। ২০২৫ সালে প্রায় সাড়ে তিন লাখ ইউরো ট্রান্সফার ফিতে রাশিয়ার প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব এফসি ডায়নামো মাখাচকালা তাকে দলে টেনে নেয়। জাতীয় দলের হয়ে ১২ ম্যাচে ৪ গোল করে এখন তিনি তিউনিসিয়ার ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। আধুনিক ফুটবলের কর্পোরেট দুনিয়ায় যেখানে কোটি টাকার একাডেমি ছাড়া তারকা হওয়া অসম্ভব মনে করা হয়, সেখানে হাজেম মাস্তুরি একটাই প্রশ্ন সামনে রাখেন — বুটজোড়া তুলে রাখার সবচেয়ে কাছের মুহূর্তটায় যদি হাল না ছাড়তেন, তাহলে কি বিশ্বকাপের মঞ্চটা তার জন্য অপেক্ষা করত না?
বিশ্ববাংলা ফলো করুন
আপডেট, ভিডিও ও ব্রেকিং নিউজ পেতে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকুন।
