"নাম ছিল জাতীয়তাবাদী দল, এখন মানুষ বলে চাঁদাবাজি দল" — রাজশাহীর মঞ্চ থেকে বিএনপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন জামায়াত আমির

রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে শনিবার বিকেলে যে কথাটি উচ্চারিত হলো, তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ যোগ করবে নিঃসন্দেহে। জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরাসরি বিএনপিকে লক্ষ্য করে বললেন, দলটির নাম ছিল জাতীয়তাবাদী দল, কিন্তু এখন মানুষের মুখে মুখে এটি পরিচিত হয়ে উঠেছে চাঁদাবাজি দল হিসেবে। একই মঞ্চ থেকে ক্ষমতাসীন সরকারকেও তিনি হুঁশিয়ার করে দিয়ে বললেন, সংসদে কথা বলতে না দিলে জনগণের পার্লামেন্টে চলে আসবেন, যেখানে স্পিকারের অনুমতির কোনো বালাই নেই।
সরকারের বিরুদ্ধে তার অভিযোগ ছিল সুনির্দিষ্ট। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সুশাসন নিশ্চিত করতে যে ১৬টি অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন অপরিহার্য ছিল, সরকার সেগুলো ফেলে দিয়েছে। এই অধ্যাদেশগুলো বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন সংসদ ও রাজপথ, দুই জায়গায় একসঙ্গে চলবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। গণভোটের রায় উপেক্ষা করাকে তিনি জনগণকে সরাসরি অপমান করার শামিল বলে বর্ণনা করে সরকারকে মনে করিয়ে দেন, অতীতে জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কেউ রেহাই পায়নি, এবারও পাবে না।
জুলাই বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ক্ষমতাসীনদের দিকে তাত্পর্যপূর্ণ একটি প্রশ্ন ছুড়ে দেন। তরুণদের রক্ত ও ত্যাগের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, তার সুফল এখন যারা ভোগ করছেন, তারা যেন সেই আন্দোলনের মূল চেতনাকে ভুলে না যান। পদ্মা ব্যারেজের সরকারি ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েও তিনি সতর্ক করেন, এটি যেন কেবল লোকদেখানো না হয়। তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে বলেন, কারও রক্তচক্ষুর দিকে না তাকিয়ে আড়াই কোটি মানুষের দুঃখ দূর করতে এই পরিকল্পনা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে।
ভারত প্রসঙ্গে তার বার্তাও ছিল স্পষ্ট এবং দ্ব্যর্থহীন। প্রতিবেশী দেশকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের শান্তিতে টান দিলে কারও শান্তি থাকবে না। সমাবেশে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম, জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এবং এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমসহ ১১ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা বক্তব্য দেন।
একই দিনে চাঁদপুরে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ আর রাজশাহীতে বিরোধীদের বিভাগীয় সমাবেশ, বাংলাদেশের রাজনীতি যে দুই মেরুতে ক্রমশ শক্ত হচ্ছে, আজকের এই দুটি মঞ্চ তারই জানান দিল।
বিশ্ববাংলা ফলো করুন
আপডেট, ভিডিও ও ব্রেকিং নিউজ পেতে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকুন।
