সংসদে কথা বলতে না দিলে রাজপথে আসব, রাজশাহীর সমাবেশে হুঁশিয়ারি জামায়াত আমিরের

শনিবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে সুশাসনের জন্য অপরিহার্য ১৬টি অধ্যাদেশ যদি সরকার বাস্তবায়ন না করে, তাহলে আন্দোলন একসঙ্গে সংসদে এবং রাজপথে চলবে। তিনি বলেন, সংসদে স্পিকারের অনুমতি নিয়েও যদি কথা বলতে না দেওয়া হয়, তাহলে তারা জনগণের পার্লামেন্টে চলে আসবেন, যেখানে কথা বলতে কারও অনুমতির প্রয়োজন হয় না।
শফিকুর রহমান এই সমাবেশে বিএনপির বিরুদ্ধেও কঠোর সমালোচনা করে বলেন, একসময় যে দলের নাম ছিল জাতীয়তাবাদী দল, এখন সাধারণ মানুষ তাদের চাঁদাবাজি দল বলে চেনে, কারণ দেশে রাজনৈতিক দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করাকে তিনি জনগণের সরাসরি অপমান বলে আখ্যায়িত করে বলেন, অতীতে জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কেউ রেহাই পায়নি এবং এবারও পাবে না। সমাবেশে এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ, জামায়াতের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমসহ একাধিক দলের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
শফিকুর রহমান সমাবেশে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে বলেন, তিস্তাসহ তিনটি নদীর পাড়ের আড়াই কোটি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করতে কারও রক্তচক্ষুর দিকে না তাকিয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই হবে। পদ্মা ব্যারেজ ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও তিনি সতর্ক করে দেন যেন এটি কেবল লোকদেখানো ঘোষণায় পরিণত না হয়। ভারতের উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল স্পষ্ট, নিজেদের দেশে মানবিক পরিবেশ তৈরি করুন এবং বাংলাদেশের শান্তিতে টান না দিলেই ভালো, কারণ সেই টান দিলে কারও শান্তি থাকবে না। ইতিহাস চর্চার প্রশ্নে তিনি বললেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে, কিন্তু শুধু ইতিহাস নিয়ে পড়ে থাকলে জাতি এগোতে পারবে না, এটাই এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।
বিশ্ববাংলা ফলো করুন
আপডেট, ভিডিও ও ব্রেকিং নিউজ পেতে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকুন।
