ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক নির্ভর করবে ফারাক্কা চুক্তি সম্পাদনের ওপর: মির্জা ফখরুল

শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন যে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ এসেছে ঠিকই, কিন্তু সেই সম্পর্ক নির্ভর করবে গঙ্গা বা ফারাক্কা চুক্তি সম্পাদনের ওপরেই। এ বছরের ডিসেম্বরে ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের চাওয়া অনুযায়ী অবিলম্বে এই চুক্তি সম্পাদন করতে হবে এবং বাংলাদেশের স্বার্থ বিনষ্ট করে কোনো চুক্তি কাউকে করতে দেওয়া হবে না।
মির্জা ফখরুল বলেন, মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী যখন ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, তখন তিনি বুঝেছিলেন এই বাঁধ বাংলাদেশের মানুষের জীবন-জীবিকা ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে দেবে এবং একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনার বিরুদ্ধেই সেদিনের সেই প্রতিরোধ। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেই আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরেছিলেন এবং যে চুক্তি করেছিলেন তা অনেকাংশে বাংলাদেশের পক্ষে গিয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্তকে তিনি ঐতিহাসিক বলে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন, অন্য যেকোনো শক্তির ভ্রুকুটি উপেক্ষা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভায় ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বুয়েটের অধ্যাপক আতাউর রহমান এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান আলোচক হিসেবে অংশ নেন। মির্জা ফখরুল সভায় সরকারবিরোধী অপপ্রচারকারীদের বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার পাঁয়তারা করছে, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মানুষদের শুধু সজাগ নয়, সংগঠিতও হতে হবে। ডিসেম্বর আসছে, চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে, এখন দেখার বিষয় শুধু বক্তৃতার জোর নাকি কূটনৈতিক টেবিলেও একই দৃঢ়তা বজায় থাকে।
বিশ্ববাংলা ফলো করুন
আপডেট, ভিডিও ও ব্রেকিং নিউজ পেতে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকুন।
