Bisswa Bangla

পরাশক্তিরা যখন মুখ ফিরিয়ে আছে, তখন মাঝখানে দাঁড়িয়ে ইতিহাস লিখছে পাকিস্তান

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ মে ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
পরাশক্তিরা যখন মুখ ফিরিয়ে আছে, তখন মাঝখানে দাঁড়িয়ে ইতিহাস লিখছে পাকিস্তান

ওয়াশিংটন ও তেহরান পরস্পরের দিকে তর্জনী তুলে আছে, মস্কো ও বেইজিং নিজেদের মধ্যে জোট গভীর করছে, ইউরোপ নিজেই টলমল করছে, আর এই মেরুকৃত দুনিয়ায় সবার সাথে কথা বলতে পারার অদ্ভুত ক্ষমতা নিয়ে নীরবে উঠে আসছে পাকিস্তান। যাকে মাত্র কয়েক বছর আগেও মূলত সন্ত্রাসবাদ, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা আর ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশ হিসেবে দেখা হতো, সেই ইসলামাবাদ এখন বিশ্বের সবচেয়ে উত্তপ্ত দ্বন্দ্বগুলোতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অপরিহার্য হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের আবহে পাকিস্তান দুই যুদ্ধরত পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের পথ সুগম করেছে, এবং সেটি সম্ভব হয়েছে কারণ ওয়াশিংটন ও তেহরান, উভয়ের কাছেই ইসলামাবাদের একটি বিশ্বাসযোগ্য অবস্থান রয়েছে।

কূটনীতি বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে ব্যাখ্যা করছেন 'মাল্টি-অ্যালাইনমেন্ট' বা বহুমুখী জোট কৌশলের সাফল্য হিসেবে। পাকিস্তান একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইরান এবং উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রেখেছে, কোনো একটি ব্লকে পুরোপুরি ডুবে যায়নি। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক মাঝেমধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ হলেও, ভৌগোলিক নৈকট্য ও ঐতিহাসিক বন্ধন সেই যোগাযোগের পথ কখনো পুরোপুরি বন্ধ হতে দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কয়েক দশকের সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা একটি প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করেছে। আর গত বছরের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র সামরিক সংঘাতের পর পাকিস্তানকে এখন একটি সক্ষম নিরাপত্তা রাষ্ট্র হিসেবে নতুনভাবে দেখা হচ্ছে, বিশেষত উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জোসেফ এস নাই দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, রাষ্ট্রের প্রকৃত প্রভাব আসে সফট পাওয়ার থেকে, কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও রাজনৈতিক বৈধতা থেকে। পাকিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থানও এখানে বড় ফ্যাক্টর, দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরের সংযোগস্থলে থাকা এই দেশটির করাচি ও গোয়াদর বন্দর ভবিষ্যতে এশিয়া, উপসাগরীয় অঞ্চল ও আফ্রিকার মধ্যে বাণিজ্যিক সেতু হয়ে উঠতে পারে। একইসঙ্গে পাকিস্তান নিজেকে আন্তর্জাতিক আইনের সমর্থক হিসেবে তুলে ধরছে, ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।

তবে এই উত্থানের গল্পটি এখনো সম্পূর্ণ নয়। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা, চলমান উগ্রবাদ, আফগানিস্তান-কেন্দ্রিক অনিশ্চয়তা আর বেলুচিস্তানের বিদ্রোহ পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে এখনো কুরে কুরে খাচ্ছে। কূটনৈতিক দৃশ্যমানতা সাময়িকভাবে মর্যাদা বাড়াতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ধরে রাখতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা আর অর্থনৈতিক আধুনিকায়নের কোনো বিকল্প নেই।

বিশ্বব্যবস্থা যত বেশি বিকেন্দ্রীভূত হবে, বিবাদমান পক্ষগুলোর মাঝে সেতুবন্ধন করতে পারা রাষ্ট্রগুলোর কৌশলগত মূল্য ততই বাড়বে। পাকিস্তানের সামনে এখন সেই বিরল সুযোগ এসেছে, প্রশ্ন শুধু একটাই, দেশটি কি নিজের ভেতরের সংকট সামলে এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে?

বিশ্ববাংলা ফলো করুন

আপডেট, ভিডিও ও ব্রেকিং নিউজ পেতে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকুন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

অপ্রতিমের মা ড. নাহিদার চব্বিশের সেই ফেসবুক পোস্ট আলোচনায়‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’ : মমতাফ্ল্যাটে মিললো স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ, পাশের কক্ষে ছিলেন এমপি গাজী নজরুলন্যাম ভবনের কক্ষে জামায়াত থেকে বহিস্কৃত এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার‘রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন নজরুলের প্রথম স্ত্রী’জাতিসংঘে 'আমাদের' বিরাট পদোন্নতি—বলে উচ্ছ্বাস ড. ইউনূসের'সবার আগে বাংলাদেশ' গানে কপিরাইট বিতর্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভিডিও প্রচারে জটিলতাসন্ত্রাসী গ্রুপের টার্গেটে পুলিশ, ফেসবুকের মাধ্যমে এসপি-ওসিকে সতর্কবার্তা