ফারাক্কা বাঁধ ভাঙার দাবি তুলেছেন ভারতের অনেক রাজনীতিকও: রিজভী

ফারাক্কার বিষ শুধু বাংলাদেশকে নয়, ভারতকেও গ্রাস করছে, এই স্বীকৃতি এখন আর শুধু বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আসছে না, ভারতের নিজের রাজনীতিবিদরাও এই সত্য মুখে বলতে বাধ্য হচ্ছেন। শনিবার, ১৬ মে, রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় এই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
রিজভী সভায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ফারাক্কা ব্যারাজের বিরূপ প্রভাব শুধু বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ নেই, ভারতেও তা গভীরভাবে পড়ছে। এতটাই যে ভারতের অনেক রাজনীতিবিদ নিজেরাই ব্যারাজটি ভেঙে দেওয়ার দাবি তুলেছেন। এই মন্তব্য সভায় উপস্থিত সবার দৃষ্টি কেড়ে নেয়, কারণ দশকের পর দশক ধরে যে ব্যারাজ নিয়ে বাংলাদেশের কৃষক থেকে রাজনীতিক সকলে সরব, সেটির বিরুদ্ধে এখন ভারতের অভ্যন্তর থেকেও প্রতিবাদের গলা উঠছে, এই তথ্য বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে নতুন শক্তি দেয়।
সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় পানি ও পরিবেশ সংকটের পাশাপাশি আরেকটি উদ্বেগের কথা সামনে আনেন। তার মতে, উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার এখন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতা উসকে দেওয়ার সরাসরি অভিযোগ এনে তিনি বলেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝগড়া করার ইচ্ছা নেই, তবে দাসত্বের শৃঙ্খলেও আটকে থাকা সম্ভব নয়। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু এই প্রসঙ্গে জানান, আগামী ডিসেম্বরে ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে, এবং এই মুহূর্তটিকে কাজে লাগিয়ে পানিবণ্টন সমস্যার একটি কার্যকর সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
সভায় সবচেয়ে বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্য দেন পানি বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত। তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তার আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে, তবে এর পূর্ণ সুফল পেতে আরও ২০ থেকে ৩০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নিয়ে তার পরামর্শ ছিল সুনির্দিষ্ট, এবার স্বল্পমেয়াদি কোনো ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী চুক্তির ভিত্তিতেই এগোতে হবে এবং পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে প্রতিবেশী অন্যান্য দেশের সঙ্গেও কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার করতে হবে।
১৯৭৬ সালের ১৬ মে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ হয়েছিল গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে, পঞ্চাশ বছর পরেও সেই দাবি মেটেনি, বরং এখন ভারতের রাজনীতিকরাও যখন ব্যারাজ ভাঙার কথা বলছেন, তখন প্রশ্ন একটাই, আর কত প্রজন্মকে এই অন্যায় মেনে নিতে হবে?
বিশ্ববাংলা ফলো করুন
আপডেট, ভিডিও ও ব্রেকিং নিউজ পেতে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকুন।
