
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রেড স্কয়ারে বিজয়ের ঘোষণা দিয়ে মঞ্চ ছাড়লেন, আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্রেমলিনে সংবাদ সম্মেলনে বসে বললেন, 'আমার মনে হয়, বিষয়টি শেষের দিকে এগোচ্ছে।' রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এই দুটি বক্তব্যের মাঝখানে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধান, কিন্তু রাজনৈতিক বার্তার দিক থেকে পার্থক্য বিশাল। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে এই প্রথম পুতিনের মুখ থেকে এতটা সরাসরি সমাপ্তির ইঙ্গিত এলো।
শনিবার ছিল রাশিয়ার বিজয় দিবস, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত বিজয়ের স্মরণে প্রতিবছর ৯ মে পালিত এই দিনটি রাশিয়ার জাতীয় আবেগের কেন্দ্রবিন্দু। সেই যুদ্ধে ২ কোটি ৭০ লাখ সোভিয়েত নাগরিকের জীবনের বিনিময়ে আসা বিজয়কে স্মরণ করে পুতিন মস্কোর কুচকাওয়াজে বলেছিলেন, 'জয় সব সময় আমাদেরই হয়েছে, আমাদেরই হবে।' তবে এবারের কুচকাওয়াজ ছিল গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে সীমিত আকারের, আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র বা ট্যাংকের বদলে ক্রেমলিনের দেয়ালের বিশাল পর্দায় কেবল ভিডিও দেখানো হয়, যা নিজেই একটি বার্তা বহন করে।
পুতিন এই যুদ্ধকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত বলে স্বীকার করেছেন এবং পশ্চিমা 'গ্লোবালিস্ট' নেতাদের দোষারোপ করেছেন। তার যুক্তি, ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের পর ন্যাটো পূর্বে সম্প্রসারিত না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরে ইউক্রেনকে পশ্চিমা প্রভাব বলয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেই ক্ষোভ থেকেই শুরু হয়েছিল এই অভিযান, যা ১৯৬২ সালের কিউবান মিসাইল সংকটের পর রাশিয়া ও পশ্চিমের সম্পর্কে সবচেয়ে গভীর ফাটল তৈরি করেছে।
বর্তমানে বিজয় দিবস উপলক্ষে তিন দিনের যুদ্ধবিরতি চলছে, যা ১১ মে শেষ হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা শুরু হলেও ক্রেমলিন জানিয়েছে সেই প্রক্রিয়া বর্তমানে স্থগিত। পুতিন ইউরোপের নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোয়েডারকে সেই আলোচনার অংশীদার হিসেবে দেখতে চান। যুদ্ধ শেষের দিকে যাচ্ছে বললেও কীভাবে শেষ হবে সেটা বলেননি পুতিন, আর সেই নীরবতাই বলছে আসল সমঝোতার পথ এখনও কতটা কঠিন।
বিশ্ববাংলা ফলো করুন
আপডেট, ভিডিও ও ব্রেকিং নিউজ পেতে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকুন।
