‘বন্দে মাতরম’ দিয়ে শুরু করে বিজেপিকে বার্তা দিলেন থালাপতি বিজয়

আন্তর্জাতিক সংবাদ : তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন থালাপতি বিজয়, আর শপথের প্রথম মুহূর্তেই রাজনৈতিক বার্তাটা দিয়ে দিলেন এমনভাবে যা দিল্লির বিজেপি নেতৃত্বকে নিঃশব্দে চুপ করিয়ে দিয়েছে। দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে এটি নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা, যেখানে একজন তারকা অভিনেতা নিছক ক্ষমতায় বসেননি, বরং প্রথম পদক্ষেপেই জানান দিয়েছেন তিনি কীভাবে খেলতে চান।
শপথ অনুষ্ঠানে হাজারো উত্তেজিত সমর্থকের উপস্থিতিতে আয়োজনটি শুরু হয় পূর্ণাঙ্গ 'বন্দে মাতরম' পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। এরপর জাতীয় সংগীত, তারপর তামিলনাড়ুর রাজ্যগান 'তামিল থাই ভাজ্থু'। তামিলনাড়ুতে সরকারি অনুষ্ঠান সাধারণত সরাসরি রাজ্যগান দিয়েই শুরু হয়, 'বন্দে মাতরম' সেখানে রীতি নয়। কিন্তু বিজয় সেই রীতি ভাঙলেন সচেতনভাবে, কারণ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি নির্দেশনা দিয়েছে সব সরকারি অনুষ্ঠানে 'বন্দে মাতরম'-এর পূর্ণ সংস্করণ বাজানো বাধ্যতামূলক করতে। বিজয় কেবল সেটি মেনেই নিলেন না, বরং বুকে সাহস রেখে প্রথমে সেটাই করলেন, বিজেপিকে কোনো অভিযোগের সুযোগই না দিয়ে।
এই বার্তার রাজনৈতিক ধার আরও তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে যখন টাইমস অব ইন্ডিয়ার বিশ্লেষণে উঠে আসে একটি বিরোধাভাসী তথ্য। শনিবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং উপস্থিত থাকলেও সেখানে 'বন্দে মাতরম' গাওয়া হয়নি। অর্থাৎ যে গানকে কেন্দ্র করে বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করে আসছে, সেই গানই তাদের নিজেদের অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিল। বিজয় এই ফাঁকটা দেখলেন এবং তাদের অস্ত্রই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করলেন।
শপথ অনুষ্ঠানে বিজয়ের পাশে ছিলেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, যা ইন্ডিয়া জোটের ঐক্যের স্পষ্ট বার্তা। একই সপ্তাহে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা 'জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন' সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যেখানে 'বন্দে মাতরম'-কে জাতীয় সংগীতের সমমর্যাদা দিয়ে আইনি সুরক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে। নিয়ম ভাঙলে এখন থেকে কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান থাকবে। 'বন্দে মাতরম'-এর ১৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও রাজনৈতিক সময়টি কাকতালীয় নয়। দক্ষিণ ভারতে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের যে নতুন মুখ উঠে আসছে, থালাপতি বিজয় হয়তো তারই সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রতীক হয়ে উঠছেন।
বিশ্ববাংলা ফলো করুন
আপডেট, ভিডিও ও ব্রেকিং নিউজ পেতে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকুন।
