
প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেইজিং সফরে গিয়ে গত বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, যেখানে লালগালিচা সংবর্ধনা, জাঁকালো ভোজসভা আর পারস্পরিক প্রশংসার বন্যার মাঝে দুই নেতা সম্পর্ককে 'খুবই শক্তিশালী' বলে বর্ণনা করলেও বাণিজ্যযুদ্ধ, তাইওয়ান এবং ইরান প্রশ্নে মূল মতপার্থক্য যে এখনো অটুট রয়েছে তা দুই দেশের আলাদা বিবৃতিতেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। সি তাঁর সরকারি বাসভবন ঝংনানহাই কমপ্লেক্সের বাগান ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন, মদ্যপান থেকে দূরে থাকা ট্রাম্পকে ভোজসভায় সামান্য পান করিয়েছেন, আর ট্রাম্প পাল্টা বলেছেন এটি ছিল জীবনে দেখা সবচেয়ে সম্মানজনক আয়োজনগুলোর একটি।
সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় তাইওয়ান নিয়ে দুই নেতার অবস্থান আগের মতোই বিপরীত মেরুতে রয়ে গেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সি ট্রাম্পকে সরাসরি সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ান প্রশ্নেই চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে এবং এখানে ভুল সিদ্ধান্ত দুই দেশকে সংঘর্ষে ঠেলে দিতে পারে। ট্রাম্প অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কৌশলগত অস্পষ্টতার নীতিতে অটল থেকে বলেছেন, তাইওয়ান রক্ষায় সেনাবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে তিনি কথা বলেন না এবং কোনো দিকেই প্রতিশ্রুতি দেননি। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এটাও বলেছেন যে ৯ হাজার ৫০০ মাইল দূরে গিয়ে যুদ্ধ করার কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই, তিনি চান পরিস্থিতি শান্ত থাকুক।
ইরান প্রশ্নে তুলনামূলকভাবে দুই পক্ষের অবস্থান কাছাকাছি এসেছে বলে ট্রাম্প দাবি করেছেন। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সি হরমুজ প্রণালির সামরিকীকরণ ও টোল আরোপের বিরোধিতা করেছেন এবং চীনের হরমুজ নির্ভরতা কমাতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি তেল কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয় এই বিষয়ে দুই নেতার অবস্থান কার্যত একই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রশংসা আর আতিথেয়তার এই চকচকে মোড়ক খুললে ভেতরে পাওয়া যাচ্ছে পুরনো বিভেদের সেই পরিচিত ছবি, আর কূটনৈতিক উষ্ণতা দিয়ে কতটা ঢাকা যাবে সেই বাস্তবতা, সময়ই বলবে।
বিশ্ববাংলা ফলো করুন
আপডেট, ভিডিও ও ব্রেকিং নিউজ পেতে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকুন।
