ট্রাম্পের সতর্কবার্তার পর নিজেকে 'স্বাধীন' রাষ্ট্র দাবি তাইওয়ানের

বেইজিং সফর শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানকে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার বিষয়ে সতর্ক করে দিলেন — আর তার জবাবে তাইপে যা করল, তা কূটনৈতিক মহলে তাৎক্ষণিক আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। শনিবার তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিল, তাইওয়ান একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং এটি গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের অধীন নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সতর্কতাকে উপেক্ষা করে এই ঘোষণা দেওয়া মানে তাইওয়ান কেবল বেইজিংকে নয়, ওয়াশিংটনকেও বার্তা দিল যে নিজের অস্তিত্বের প্রশ্নে তারা কোনো আপোস করবে না।
এই ঘোষণার পেছনে তাৎক্ষণিক প্রেক্ষাপট হলো ট্রাম্পের বেইজিং সফর, যেখানে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং তাকে সরাসরি অনুরোধ করেন তাইওয়ানকে সমর্থন না দিতে। সেই বৈঠকের পর ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবছেন — এবং এই ইঙ্গিতই তাইপেকে নড়েচড়ে বসিয়েছে। দশকের পর দশক ধরে তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে বেইজিং, আর সেই দাবির বিরুদ্ধে তাইপের সবচেয়ে বড় ঢাল ছিল ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি।
সেই ঢালে ফাটল ধরার আশঙ্কা দেখা দেওয়াতেই তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অস্ত্র বিক্রির প্রসঙ্গটিকে সামনে টেনে আনল। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন অস্ত্র বিক্রয় শুধু দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নয় — এটি আঞ্চলিক হুমকির বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অংশ। অর্থাৎ তাইওয়ান পরিষ্কার করে দিতে চাইছে, এই অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ হলে শুধু তাইওয়ানের নিরাপত্তা নয়, পুরো ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভারসাম্যই নড়ে যাবে।
ট্রাম্প-সি বৈঠকের পর তাইওয়ান প্রণালি ঘিরে যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তাতে তাইপের এই ঘোষণা কতটা কার্যকর কূটনৈতিক অস্ত্র হবে — নাকি বেইজিংয়ের ক্রোধ আর ওয়াশিংটনের বিরক্তি একসঙ্গে ডেকে আনবে, সেটাই এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির সবচেয়ে উত্তপ্ত প্রশ্ন।
বিশ্ববাংলা ফলো করুন
আপডেট, ভিডিও ও ব্রেকিং নিউজ পেতে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকুন।
