ইরান যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে এশিয়া, জ্বালানি সংকটে দিশেহারা কোটি মানুষ

ইরান যুদ্ধের জের ধরে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের কারণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি দেশের জনগণকে বাসা থেকে কাজ করতে এবং বিদেশ সফর কমিয়ে আনতে আহ্বান জানিয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়ার এই বৃহত্তম দেশটির সরকার স্বীকার করে নিয়েছে যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক নেই এবং নাগরিকদের সতর্কভাবে জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে। থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনের মতো দেশগুলো আগেভাগে জ্বালানি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিলেও এখন তারাও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে গেছে, আর পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়ে চলেছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ যে তথ্যটি উঠে আসছে, তা হলো মজুত সংকট। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী ইন্দোনেশিয়ার হাতে মাত্র তিন সপ্তাহের জ্বালানি মজুত রয়েছে, আর ভিয়েতনামের মজুত এক মাসেরও কম। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করা প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল পাকিস্তান ও বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে। গ্রামীণ পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি ফুরিয়ে যাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরছে। বাংলাদেশের কৃষক মিজানুর রহমানের কথায় এই দুর্দশার ছবিটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, রাত দুইটায় ঘুম থেকে উঠেও অনেক সময় মাত্র দুই লিটার ডিজেল পেতে চব্বিশ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
কৃষিখাতে এই সংকট এখন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ডিজেলের পাশাপাশি সারের সংকটও চাষিদের কোণঠাসা করে ফেলছে, কারণ ইউরিয়ার বড় অংশ উপসাগরীয় অঞ্চলে উৎপাদিত হয় এবং যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এর দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। এশিয়ার লাখ লাখ ধানচাষি ইতোমধ্যে রোপণ শুরু করলেও বাড়তি খরচের চাপে অনেকে জমির পরিমাণ কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। একটি যুদ্ধ যখন এশিয়ার কোটি মানুষের থালা থেকে ভাত কমিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, তখন প্রশ্ন ওঠে এই সংকটের শেষ কোথায়?
বিশ্ববাংলা ফলো করুন
আপডেট, ভিডিও ও ব্রেকিং নিউজ পেতে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকুন।
