যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় ‘মধ্যস্থতা’ করতে তেহরানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর ইরানে হামলার পর ৯ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও শান্তি আলোচনা যখন পুরোপুরি থমকে আছে, ঠিক সেই মুহূর্তে শনিবার দুই দিনের সরকারি সফরে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, আলোচনা এগিয়ে নেওয়া এবং এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তান টানা চেষ্টা করে যাচ্ছে এবং নাকভির এই সফর সেই প্রচেষ্টারই অংশ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মাত্র কয়েক দিন আগেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরান সফর করে এসেছেন, অর্থাৎ ইসলামাবাদ এই মধ্যস্থতায় কেবল কূটনৈতিক নয়, সামরিক পর্যায়েও সক্রিয়ভাবে যুক্ত।
পাকিস্তান এর আগে গত মাসেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করেছিল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে কিছু বার্তা পাওয়া গেছে যা থেকে বোঝা যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী। তবে এর আগে ট্রাম্প ইরানের একটি পাল্টা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে যুদ্ধবিরতি এখন লাইফ সাপোর্টে আছে। জবাবে ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, তেহরানের ১৪ দফা প্রস্তাব মেনে না নিলে ওয়াশিংটনকে একের পর এক ব্যর্থতার মুখে পড়তে হবে।
দুই পক্ষের এই কঠোর অবস্থানের মাঝে পাকিস্তানের ভূমিকা এখন পরিষ্কারভাবে একটি সেতু হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু যে যুদ্ধবিরতি এখনো লাইফ সাপোর্টে, সেটিকে পূর্ণ শান্তিতে রূপ দিতে ইসলামাবাদের এই তৎপরতা যথেষ্ট হবে কি না, নাকি মহসিন নাকভির তেহরান সফর কেবল কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হবে, সেটাই এখন কোটি ডলারের প্রশ্ন।
বিশ্ববাংলা ফলো করুন
আপডেট, ভিডিও ও ব্রেকিং নিউজ পেতে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকুন।
