যুদ্ধে তেহরানে ৬০টি ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত, ১০টি পুরোপুরি ধ্বংস

শনিবার (১৬ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় রাজধানী তেহরানে প্রায় ৬০টি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর মধ্যে ১০টি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের বহু ঐতিহ্যবাহী স্থান ও জাদুঘর ক্ষতির মুখে পড়েছে, তবে তেহরান অঞ্চলেই এর প্রভাব সবচেয়ে ব্যাপক বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু সামরিক অবকাঠামো নয়, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গড়ে ওঠা ইরানের সভ্যতার নিদর্শনগুলো এই যুদ্ধে মুছে যাচ্ছে — এই বাস্তবতা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এদিকে চীন সফর শেষে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরানের দেওয়া সাম্প্রতিক প্রস্তাবে তিনি পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন এবং সেই প্রস্তাবগুলো বাতিল করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সরাসরি জানান, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চলমান থাকবে। একই সফরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, তিনি হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু রাখার পক্ষে এবং ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের বিরোধী। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি চীনের পুরনো অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি মাত্র, নতুন কোনো কূটনৈতিক বার্তা এখানে নেই।
যুদ্ধের এই পর্যায়ে এসে পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে তা কেবল ইরানের জন্য নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্যই উদ্বেগজনক। হরমুজ প্রণালির মতো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ যেখানে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের বড় অংশ নির্ভরশীল, সেখানে অস্থিরতা টিকে থাকলে এর মাসুল গুনতে হবে বিশ্বের প্রতিটি কোণার সাধারণ মানুষকে। ট্রাম্প যখন অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন আর তেহরানে একের পর এক ঐতিহাসিক স্থাপনা ধুলোয় মিশে যাচ্ছে, তখন প্রশ্ন একটাই — এই যুদ্ধের শেষে কী টিকে থাকবে, ইরানের ভবিষ্যৎ নাকি তার হাজার বছরের অতীত?
বিশ্ববাংলা ফলো করুন
আপডেট, ভিডিও ও ব্রেকিং নিউজ পেতে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকুন।
