
সিলেট টেস্টে বাবর আজম যখন ক্রমেই বাংলাদেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছিলেন, তখন নতুন স্পেলে আক্রমণে আনা হয় ২৩ বছর বয়সী নাহিদ রানাকে এবং প্রথম ওভারেই বাবরকে প্যাভিলিয়নে পাঠিয়ে দেন এই তরুণ পেসার। আউটের আগের বলটির গতি ছিল ১৪৯ কিলোমিটার, আর উইকেট নেওয়া বলটি ছিল ১৩৯ কিলোমিটার, গতির এই চমকেই ফ্লিক করতে গিয়ে টাইমিং হারান বাবর এবং মিড-অনে ক্যাচ দেন। ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে দুই টেস্টে বাবরকে দুবার ফেরানোর পর সিলেটে তৃতীয়বারের মতো এই কাজটি করলেন নাহিদ, আর তিন টেস্টে নাহিদের ৩৯ বল মোকাবিলায় বাবর রান করেছেন মাত্র ২২, গড় নেমে এসেছে মাত্র ৭.৩৩-এ।
টেস্ট ক্রিকেটে বাবর আজমকে সবচেয়ে বেশিবার আউট করেছেন অস্ট্রেলিয়ার জশ হেইজেলউড, ৯ টেস্টে ৭ বার। শ্রীলঙ্কার প্রভাত জয়াসুরিয়া ৪ টেস্টে তাকে ফিরিয়েছেন ৬ বার এবং নাথান লায়ন আউট করেছেন ৫ বার। নাহিদ মাত্র ৩ টেস্টেই ৩ বার সফল হওয়ায় ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই তালিকায় আরও ওপরে উঠে আসতে তার বেশি সময় লাগবে না। ম্যাচ শেষে নাহিদ জানান, আউটের আগের বলে বেশি গতি দিয়ে পরের বলে কিছুটা কমানোর পরিকল্পনাটাই কাজে লেগেছে।
তবে এত বড় একটি অর্জন নিয়েও নাহিদ রানা মাটিতে পা রেখেই কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, প্রত্যেক উইকেটই তার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনো ব্যাটসম্যানকে বলে বলে পরিকল্পনা করে আউট করা যায় না, শুধু নিজের প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকে দলের জন্য কাজ করাটাই লক্ষ্য। বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ে দীর্ঘদিনের যে শূন্যতা ছিল, নাহিদ রানার মতো একজন তরুণ পেসার বিশ্বমানের ব্যাটসম্যানকে বারবার বিপদে ফেলতে পারলে সেই প্রশ্নটার উত্তর হয়তো ধীরে ধীরে মিলতে শুরু করেছে।
বিশ্ববাংলা ফলো করুন
আপডেট, ভিডিও ও ব্রেকিং নিউজ পেতে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকুন।
